পারিবারিক ও সামাজিক অণুগল্প
প্রিয় পাঠক পাঠিকা, আপনাদের জন্য রইল ভিন্ন স্বাদের দুটি সামাজিক ও একটি পারিবারিক অণুগল্প।
১)
আধুনিক
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
- 'ধুস,আধুনিক! আধুনিকতার বুঝিস টা কি তুই?' সোনালির ক্লাসমেটরা সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠল।
-- 'ভুল করছিস তোরা। তোরাই বরং বুঝিস না আধুনিকতার মানে। শোন, মেয়েদের পোশাক পরার স্বাধীনতা কে আমি পুরোপুরি সমর্থন করি।'
- 'কিন্তু অনীতাকে সেদিন সিগারেট খেতে বারণ করছিলি কেন?'
-- 'ওরে পাগল, ওকে সিগারেট খেতে বারণ করছিলাম ও মেয়ে বলে নয়, সিগারেট খেলে ক্যান্সার হওয়ার চান্স থাকে,তাই। ও একটা ছেলে হলেও আমি একই কথা বলতাম।'
- 'আর বাজে বকিস না সোনালি! ছেলে! হুঁ! ছেলেদের সাথেও তো কথা বলিস না! এটাও কি আধুনিকতার অন্তর্ভুক্ত?'
-- 'শোন, তোরা না বুঝে বোকার মতো কথা বলছিস। কে বলেছে ছেলেদের সাথে আমি কথা বলিনা? শুধু অঞ্জনদের সাথেই বলিনা, কারণ ওই গ্রুপের ছেলেগুলো মেয়েদের খারাপ নজরে দেখে। মনে রাখিস, আধুনিকতা মানে স্বাধীনতা, কিন্তু স্বাধীনতা মানে উশৃঙ্খলতা নয়।'
২)
ডানাকাটা
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
অষ্টমঙ্গলায় আজ বাপের বাড়ি এসেছে তিয়াসা। তার প্রাণের বন্ধু নীলা আগে থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিল। তিয়াসাকে দেখেই সে বলল, 'আরে বাঃ, লাল শাড়ি লাল টিপে মেয়েকে যে ডানাকাটা পরী লাগছে!'
তিয়াসা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, 'পরী কিনা জানিনা রে নীল, তবে ডানাকাটা এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।'
- 'কেন রে?' তিয়াসার হতাশ মুখের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে প্রশ্ন করল নীলা।
-- 'না না, ও কিছু না, এমনি।'
তিয়াসা আর কিছু বলল না, কারণ বিয়ের পরদিনই শাশুড়ির গম্ভীর গলায় বলা কথাগুলো যে আজও ভোলেনি তিয়াসা --- 'শোনো বাছা, বাড়ির বৌ, বৌয়ের মতোই থেকো। বেশি উড়তে চাইলে ডানা ছাঁটতে বেশি সময় লাগবে না আমার', আর তার স্বামীও নিজের মায়ের কথাকে পূর্ণ সমর্থন করেছিল।
৩)
সময়ের অভাব
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
দেশের লোকেরা বড্ড ব্যস্ত,কত গুরুত্বপূর্ণ কাজে ছুটছে। সময়ের বড়ো অভাব তাদের,তাইতো সহায়-সম্বলহীন গরীব মানুষটা বিনা চিকিৎসায় পড়ে আছে রাস্তার একপাশে, কারোর সময় নেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার। সবাই সবাইকে বলছে, 'এত লোক থাকতে আমিই কেন?'
সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির নায়ক-নায়িকা এসেছেন তাঁদের ছবির প্রচারে। না, আজ আর সময়ের অভাব নেই কারোর, মনে হচ্ছে যেন সবার আজ অফুরন্ত সময়, ব্যস্ততার লেশমাত্র নেই, নায়ক-নায়িকাকে দেখতে যেতে হবে যে!
0 মন্তব্যসমূহ