Advertisement

আপাতদৃষ্টিতে


আপাতদৃষ্টিতে 
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

 রমেনবাবু আর তাঁর স্ত্রী আরতিদেবী বৃদ্ধাশ্রমে চলে গেছেন নিজেদের বাড়ি ছেড়ে একমাস হল।পাড়াসুদ্ধু সকলে,আত্মীয়স্বজনেরা ছি ছি করতে লাগল, 'একমাত্র ছেলেকে সবটুকু দিয়ে বড় করেছেন,সেই ছেলে আজ দেখ! বিয়ে করেই মা বাবাকে ভুলে বৌকে নিয়ে চলে গেছে অন্য কোথায় ভাড়া নিয়ে!ছ্যা ছ্যা,এদের দেখে মানুষের সন্তান কথাটার ওপর থেকেই ভরসা উঠে যাবে!কি অকৃতজ্ঞ!'
  অথচ সমাজ জানে না,রমেনবাবু আর আরতিদেবীর একমাত্র ছেলে রোহিত বাধ্য হয়েছে তার স্ত্রী অঞ্জলীকে নিয়ে বাবা মার কাছ থেকে দূরে চলে যেতে।রোহিত ভালোবেসে বিয়ে করেছিল অঞ্জলীকে।এদিকে রমেনবাবু আর আরতিদেবীর ছিল বড্ড পণের খিদে,অন্যদিকে রোহিত পণ নেওয়ার ঘোর বিরোধী। তাই নিজেদের দাবী না মেটায় অঞ্জলীর ওপর সেই বিয়ের পরদিন থেকেই জ্বালা মেটান তার শ্বশুর আর শাশুড়ি।অত্যাচার করেন অমানুষিক।রোহিত অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করছিল এবাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে,খুঁজছিল ভাড়া বাড়ি।শেষমেশ পেয়েও গেল অবশ্য।কিন্তু তারা যেদিন বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে,তার আগের দিনও অঞ্জলীর ওপর অত্যাচার হয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে।সে বাইরের মেয়ে হয়ে তাঁদের একমাত্র ছেলেকে তাঁদের থেকে কেড়ে নিয়েছে বলে কথা!অঞ্জলী অন্তঃসত্ত্বা,সেকথা জেনেও শাশুড়ি তাকে ঠেলে ফেলে দিয়েছেন মেঝেয়,মৃত্যুর সাথে লড়াই করে ফিরে এসেছে অঞ্জলী আর তার সন্তান।অঞ্জলীকে যেদিন হসপিটাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়,সেদিনই রোহিত প্রতিজ্ঞা করে,আর কখনো মা-বাবার মুখ দেখবে না সে।চলে আসে বাড়ি ছেড়ে।আর তারপরেই বৃদ্ধ-বৃদ্ধা চলে আসেন বৃদ্ধাশ্রমে,কারণ এতকাল অঞ্জলীই যত্ন করত তাঁদের,এখন এই ফাঁকা বাড়িতে আর কে দেখাশুনো করবে তাঁদের!
  কিন্তু তাতে সমাজের কি?তারা তো সবটাই আপাতদৃষ্টিতে দেখেই বিচারসভা বসাতে ভালোবাসে চিরকাল!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

2 মন্তব্যসমূহ