সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
— 'মা,আমার তো প্রায়ই অভিমান হয় কাছের মানুষগুলোর ওপর বিভিন্ন কারণে, তোমার কখনো অভিমান হয় না মা?'
— 'জানিস মা,সে অনেক কাল আগের কথা,যখন আমার অভিমান হত।মা বাবার একমাত্র মেয়ে ছিলাম,যথেষ্ট আদর ছিল বাড়িতে।যদিও বা কখনো সখনো মা বাবা বকতো,ঠাম্মা দাদু ছিল,তারা প্রশ্রয় দিত সবসময়ই আমাকে।যা চাইতাম মুখ ফুটে বলতে না বলতেই হাতে চলে আসত।অঢেল সময় ছিল তখন,তাই অভিমানটাও ছিল।'
— 'আর তারপর?'
— 'তারপর যখন আমার উনিশ বছর বয়েস,বিয়ে হল এক যৌথ পরিবারে।সারাজীবন মা বাবা দাদু ঠাম্মার প্রশ্রয়ে বেড়ে ওঠা মেয়েটার সেদিন শ্বশুরবাড়িভর্তি এত লোক দেখে সে কি কান্না!কিন্তু দুদিন পরেই সকলের আদর ভালোবাসা পেয়ে ভুলে গেলাম সব দুঃখ।কিন্তু কি জানিস মা,সে এক অন্য ভালোবাসা।দায়িত্বশীল ভালোবাসা।বিপরীতের মানুষগুলোর জন্য কিছু করাতে যে এতখানি আনন্দ মিশে আছে তা বিয়ের আগে কোনোদিনও জল না গড়িয়েও খাওয়া মেয়েটা বুঝল,আর তারপরেই নতুন ভালোবাসার বন্ধন আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলল সে মেয়েকে।তারপর যখন আমার বাইশ বছর বয়েস,তুই এলি।সন্তানের সুখেই মায়ের সুখ— এই কথাটা যে কতটা সত্যি উপলব্ধি করলাম।সংসার আরও অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে ফেলল আমায় নিজের সাথে।খাওয়া,ঘুম এসব করতেও ভুলে গেছি কত সময়,আর অভিমান?হুহঃ,যে মানুষ অন্যের সুখে নিজের সুখ খোঁজে,সে মানুষের অভিমান হয় না রে মা।'
— 'মা শোনো,এতদিন তোমার তুহিনা ছোট ছিল,কিন্তু আজ সে চাকরি পেয়েছে,নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে,বয়স বেড়েছে তোমার।আজ থেকে তাই খাতায় কলমে আমি তোমার মেয়ে,কিন্তু প্র্যাকটিক্যালি,তুমিই আমার মেয়ে আজ থেকে।আজ থেকে তুমি আবার অভিমান করবে মা,সেই বিয়ের আগের নন্দিনীর মতো,থুড়ি,নন্দুর মতো।আর তোমায় প্রশ্রয় দেবে তোমার এই মা,তুহিনা।'
0 মন্তব্যসমূহ