বিশ্বাস অবিশ্বাস
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
— 'অসীমা,তোকে দেখে বড্ড অবাক হই জানিস তো মাঝে মাঝে!'
— 'কেন?'
— 'শোভন তোর ভালোবাসার সুযোগ নিয়ে তোকে ঠকিয়ে চলে গেল,তবুও বিন্দুমাত্র দুঃখ তো দেখতে পাই না তোর চোখে মুখে!দিব্যি হাসিমুখে ঘুরে বেড়াস দেখি!এদিকে আমায় দেখ!সৌমিক আমার জীবন থেকে চলে যাওয়ার পর থেকে আর কিচ্ছু ভালো লাগে না,এই জীবনটাই দুর্বিষহ লাগে মাঝে মাঝে।'
— 'আসলে কি জানিস মল্লিকা,আমি শোভনকে সবটুকু দিয়ে ভালোবাসতাম,বিশ্বাস করতাম চোখ বুজে।ও আমার সেই বিশ্বাসের দাম দিতে পারেনি,সেটা ওর ব্যর্থতা,আমার নয়।আমি তো এটুকু মনে মনে জানি,যে ও আমাকে হয়ত চিট করেছে,কিন্তু আমার দিক থেকে তো ভালোবাসা-বিশ্বাসে কোনো খামতি ছিল না,সে কারণেই দিনশেষে নিজেকে নিজের কাছে জবাবদিহি করতে হয় না।'
— 'অসীমা!'
— 'হ্যাঁ রে মল্লিকা।এদিকে তুই দেখ,সৌমিককে তুই দিনের পর দিন মিথ্যে সন্দেহ করে গেছিস,কখনও ফোনে ওকে বিজি দেখলে বা রাতের দিকে অনলাইন দেখলেই তোর যা মনে এসেছে বলেছিস,ওর যত মেয়েবন্ধু ছিল সবাইকে ওর থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করেছিস,কারণ তোর যুক্তি ছিল,তুই ওকে 'ভালোবাসিস'! মলি,যে সম্পর্কে বিশ্বাসই নেই বিন্দুমাত্র,সে সম্পর্ক আসলে অন্তঃসারশূন্য,কখনই ভালোবাসা নয় অন্তত।ছেলেটাকে তুই বাঁচতে দিতিস না নিজের মতো করে,অথচ দেখ সৌমিক কিন্তু একেবারেই শোভনের মতো নয়,বিশ্বাসের মর্যাদা ও দিতে জানে।তাই তোর দিনের পর দিন এসব ইমোশনাল অত্যাচার সহ্য করেও ও তোকেই ভালোবেসে গেছে পাগলের মতো।আর তুই?সেদিন যখন রাস্তায় ওর এক মাসতুতো বোনের সাথে কথা বলছিল,সেটা দেখে তুই ওকে ভীষণ রকম অপমান করে সম্পর্কটা শেষ করে দিলি।এতদিন পর তুই বুঝতে পেরেছিস,যে সৌমিক আসলে কেমন।সে কারণেই তোর মানসিক শান্তি একেবারে তলানিতে,প্রতি রাতে তোকে জবাবদিহি করতে হয় নিজের কাছে,ঝগড়া করিস নিজের সাথেই,তীব্র অপরাধবোধ তোকে কুরে কুরে খাচ্ছে।সেই কারণেই আজ এতটা অস্থির,অসহায় বোধ করিস তুই।'
0 মন্তব্যসমূহ