Advertisement

সেই দুজন

সেই দুজন
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

১) সেদিন কলেজে ক্লাস চলাকালীন হঠাৎই শিল্পার মাথাটা কেমন ঘুরে গেল,আরেকটু হলেই পড়ে যাচ্ছিল।প্রেসার খুব লো ওর।রূপম যদি ওকে না ধরে ফেলত,তাহলে সিঁড়িতে পড়েই যেত।রূপম খুব ভালো বন্ধু ওর,ওই বলল,'চল শিল্পা,তোকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসি।এই শরীরে একা একা তোকে ছাড়ব না কিছুতেই!'
শরীর খারাপের মধ্যেও শিল্পার মুখটা কেমন ভয়ে শুকিয়ে গেল,বলল,' না না রূপ,তুই যাস না আমায় পৌঁছে দিতে,মা আমার সাথে একটা ছেলেকে দেখলে খুব রাগ করবে,না জানি কি ভাববে!'
— 'কেন রে,আমি তো তোর বন্ধু।'
— 'ভাই রূপ,আজও এই সমাজের অনেকেই মানে না যে একটা ছেলে একটা মেয়ের ভালো বন্ধু হতে পারে!না ভাই,তুই যাস না,আমি বরং পৃথাকে বলি আমায় পৌঁছে দিতে।'
 যাওয়ার পথে পৃথার সাথে অনেক কথা হচ্ছিল শিল্পার।
— 'হ্যাঁ রে পৃথা,তুই যে আকাশের সাথে চুটিয়ে প্রেম করিস,বাড়িতে জানে?'
— 'হ্যাঁ ভাই,বাড়িতে সব জানে,আরে মা-বাবা তো আমার বন্ধু একদম,আকাশ কতবার গেছেও আমাদের বাড়ি।'
— 'কি বলছিস!এমনও হয়?'
শিল্পা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবে, 'দুজনেই মা,অথচ কত পার্থক্য!'


২) রুমির ফোনটা আবারও কেটে দিল অশোক।মনে মনে ভাবে,'উফ,এই মেয়েটা আর পাল্টাল না।এতবার করে বলে দিলাম সন্ধ্যেবেলায় আমি বাড়িতে থাকি,ফোন করিস না!সেই করবে!'
 রুমি অশোকের ছোটবেলার বন্ধু।এক স্কুল, কলেজ,টিউশন— সবাই জানত ওরা বেস্টফ্রেন্ড।যদিও অনেকে টোন-টিটকিরিও কাটত,তবে ওসবে ওরা কান দিত না।
কিন্তু বিয়ের পর মধুমিতা সোজাসুজি অশোককে বলে দিয়েছিল,কোনো মেয়েবন্ধুর সাথে যোগাযোগ রাখা চলবে না।
অশোক অনেক বোঝাবার চেষ্টা করেছিল নিজের স্ত্রীকে, কিন্তু যে মানুষ জেগে জেগে ঘুমোয়,তার ঘুম ভাঙাতে স্বয়ং ঈশ্বরও ব্যর্থ,তাই অশোকের ছোটবেলার অনেক বান্ধবীর সাথে তার যোগাযোগ নিভে গেল,কিন্তু রুমি নাছোড়বান্দা মেয়ে।ও মধুমিতাকে বুঝিয়েই ছাড়বে যে,ও শুধুই অশোকের বন্ধু।কম অপমানিতও হয়নি ও মধুমিতার কাছে,তবু মধুমিতাকে কাছে টেনে নিয়েছে ও।মধুমিতার ভাষায়,'এরা হল পুরুষভোলানো মায়াবিনী মেয়ে।'
ওদিকে রুমির স্বামীর বন্ধু-বান্ধবী সবার রুমিদের বাড়িতে অবাধ যাতায়াত। রুমি সবাইকে ভালোবাসে।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে অশোক ভাবে,মধুমিতা আর রুমি দুজনেই স্ত্রী, অথচ কত পার্থক্য!
আসলে সব সম্পর্কেরই মূল হল বিশ্বাস, বিশ্বাস ছাড়া যেকোনো সম্পর্কই অর্থহীন, বোঝা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ