সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
আমাদের জীবনে প্রেম আছে,কাছের মানুষের সান্নিধ্য আছে,আশা আছে যেমন একদিকে,তেমন অন্যদিকে আছে প্রিয়জন হারানোর কষ্ট,বিচ্ছেদের যন্ত্রণা,আছে হতাশা,আছে মৃত্যুভয়ও।তবু তো আমরা মরণশীল,প্রতিটি মানুষের জীবনেই লড়াই আছে,দুঃখ আছে,ব্যাধি-জরা সবই আছে,এসব কিছু নিয়েই জীবনের শেষদিন পর্যন্ত চললেও চেষ্টা করি সুখ খুঁজে নিতে,সুস্থতা-আশার আলো-হাসির ঝাড়বাতির নীচে থাকতে।এই স্বল্প জীবন পথে প্রতিটা মুহূর্তে বাঙাল-ঘটি,রাজনীতি,লিঙ্গবৈষম্য এসব নিয়ে একে অন্যকে কাদা ছোড়াছুড়ির কি খুব দরকার আছে?বিশেষ করে এরকম কঠিন মুহূর্তে?সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে পর্যন্ত শান্তি নেই মানুষের,সামান্যতম ব্যাপার নিয়ে চলছে বিতর্কের নামে নোংরামি,চলছে গালিগালাজ,বডি শেমিং!সোশ্যাল মিডিয়া তো আর সোশ্যাল নেই,হয়েছে ডাস্টবিন,কোনো মানুষকে পার্সোনালি না চিনে না জেনে খাপ বসানো,জাজ করা হয় এখানে।বলছি কি,এত বিচ্ছেদ-লড়াই-অসুখের মাঝে এসব অশান্তি করে কি নিজেদের মনের শান্তিটাও বাড়ে?নিশ্চয়ই না!আর উত্তরটা না হওয়ারই কথা,কারণ মিলেমিশে থাকার মধ্যে,একতায় বাঁচার মধ্যে,অন্যকে সম্মান করার মধ্যে ভীষণ মানসিক শান্তি আছে বিশ্বাস করুন,যেটা সারাজীবন অন্যের গায়ে কালি ছেটানোর ধান্দায় থাকলে আপনি কোনোদিনই বুঝবেন না।তাই বলি কি,চলুন না,অন্যের কথা নাহয় না ই ভাবলেন,শুধু নিজের মানসিক শান্তিটুকুর কথা ভেবেই না হয় এত বিভেদ-হিংসা থেকে একটু বেরিয়ে আসুন,সবসময় যে আপনাকেই প্রতিটি তর্কে জিততে হবে এরকম মাথার দিব্যি কেউ দেয়নি,আর বিতর্কে হেরে গেলেই সবক্ষেত্রে অপমান হয়না সেটা,একটু বুঝুন।সেই জন্ম থেকে শুধু নিজের ইগো স্যাটিসফাই তো অনেক করলেন,কিন্তু ভেবে দেখুন তো,শান্তি পেয়েছেন তো মনে মনে?উত্তরটা না হবে,আমি জানি।তাই এই স্বল্পকালীন জীবনপথে হিংসার আগুন না ছড়িয়ে,শান্তির ফুল ছড়ান না!মনে রাখবেন আগুন কিন্তু মনে রাখে না যে কে তাকে জ্বালিয়েছিল,সে সবার মতো আপনাকেও পুড়িয়ে খাক করে দেবে,তার চেয়ে শান্তির সুগন্ধি ফুলের গন্ধটা উপভোগ করাই বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে না?কি বলেন?
0 মন্তব্যসমূহ