অভিমানের অর্থ
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
ভালোবাসলেই খুব অভিমান করতে ইচ্ছা হয়,খুব,
আমার আর স্বচ্ছরও সেটাই হয়েছিল,
অভিমানের পাহাড়টা কখন যে রাগে পরিণত হয়ে গিয়েছিল বুঝতেই পারিনি,
কাছাকাছি থেকেও মনের দূরত্বটা বাড়িয়েছিলাম কয়েক মাইল,
বুঝতাম না স্বচ্ছকে,
আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল অন্য পুরুষের কাছে,
হয়ত সুখও খুঁজে পেয়েছিল,
ডিভোর্স দিয়েছিলাম,ও বলেছিল,'দ্বিতীয় বিয়ে করিস!'
'হ্যাঁ রে,এবার তোর থেকে দ্বিগুণ ভালো মেয়ে আনব দেখিস,'বলে সই করে দিয়েছিলাম চরম ঘৃণায়,
হেসেছিল ও,বলেছিল,'সুখী হোস!'
কাল আবার গড়ের মাঠে হঠাৎ দেখা দুটো রাস্তা আলাদা হয়ে যাওয়া মানুষের,
'কি রে,বরকে বাড়িতে একা ফেলে এলি?আবার অন্য পুরুষ জোটালি নাকি?'
এক চোখ জল নিয়ে চড় মারল স্বচ্ছ আমার গালে,
'সাহস কিভাবে হয় আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলিস?'
খুব অসম্মানিত হয়ে আমিও চলে এলাম সেদিন,
হঠাৎ একদিন রাস্তায় দেখলাম স্বচ্ছর জীবনের দ্বিতীয় পুরুষ অন্য নারীর হাতে হাত রেখে রাস্তা পার হচ্ছে,
বুকটা ধক করে উঠল,ছুটলাম সেই পুরুষের কাছে,
'স্বচ্ছ?ও তো আমার বন্ধু,প্রেমিকা হল কবে?' একমুখ হাসল সে।
'তবে যে স্বচ্ছ আমায় বলল ও তোমাকেই বিয়ে করবে?'
'জয়,অভিমানের অর্থ আজও বুঝলে না?'
আমার মতো স্বচ্ছও যে বড্ড অভিমানী,
আমার অবিশ্বাস না জানি কত কষ্ট দিয়েছে মেয়েটাকে,
তাড়াতাড়ি ফোনটা হাতে নিলাম,নম্বরটা আনব্লক করলাম,
আমার স্বচ্ছতোয়ার অভিমান ভাঙাতে হবে তো!'
0 মন্তব্যসমূহ