Advertisement

শেষবারের মতো

শেষবারের মতো
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

শেষবারের মত ঘুমের ওষুধের শিশিটা মুখে ঢেলে দেওয়ার আগে,
একবার পড়ার টেবিলে রাখা খবরের কাগজটা খুলে নিও,
দেখে নিও ওই অ্যাসিডে পোড়া মেয়েটার নির্মল হাসি,
আজও ওর অপরাধীরা রাস্তায় ঘুরে সিগারেট খায়,
ব্লেডটা শিরায় গেঁথে দেওয়ার আগে,
একবার টিভিটা অন কোরো,
হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা ছেলেটার চোখের আগুনটা খেয়াল কোরো,
সামনেই ওর উচ্চমাধ্যমিক, অ্যাক্সিডেন্টে দুটো পা ই কাটা চলে গেছে,
আঁধার রাতে গঙ্গায় ডুব দেওয়ার আগে,
একবার ঘাটটা দেখে নিও ভালো করে,
সেই কবেকার ভিক্ষে পাওয়া ছেঁড়া কম্বলের তলায় শুয়ে আছে দুটো মা-মরা কচি ছেলে,
পোশাক তাদের শতচ্ছিন্ন, 
আর তাদের বাবা তাদের মাথায় হাত রেখে ঢুলছে,
সোয়েটার দূর,চাদরও জোটেনি তার এই পৌষে,
পৌষমাস সম্পর্কে তোমার ধারণাটাই মিথ্যে করে দিল ওরা,
ছাদ থেকে ঝাঁপানোর আগে,
মোবাইলটা বের করে একটু চেক করো,
দেখো ওই মেয়েটাকে সকলে কলঙ্কিনী বলছে,
মা-বাপও ঘরে তোলেনি,ও যে অপবিত্র হয়েছে সেই নির্জন রাতে,
দেখো মুখের কাপড়টা সরিয়ে ফেলেছে নির্ভীক যোদ্ধার মতো,
চোখ-মুখ ফুঁড়ে বেরোচ্ছে প্রতিবাদের তীব্র নেশা,
মেট্রোয় ঝাঁপ দেওয়ার আগে,
একবার শুনে নিও পাশের দুই বন্ধুর কথোপকথন, 
ওরা উচ্চশিক্ষিত বেকার,
উঠতে বসতে শুনতে হয় ছোটবড়ো কথা,
ওদের প্রেমিকারা দশ বছর আগে অন্য পুরুষের হাত ধরে পালিয়েছে,
আজ ওরা যাচ্ছে একটা চাকরির ইন্টারভিউ দিতে,
আত্মহত্যা করতেই পারো,
কিন্তু শেষবারের মতো,একবার পঞ্চ ইন্দ্রিয় কাজে লাগিয়ে নিও।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ