মোক্ষম ওষুধ
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
ছোট থেকে আজ পর্যন্ত বাড়ির খাবারের চেয়ে বাইরের খাবারের প্রতি আমার আগ্রহ বেশি,ভীষণরকম বেশি।প্রাইমারি স্কুলে পড়াকালীন যেসব দিন মিড ডে মিলে লুচি-ঘুগনি দিত,সেদিন বাড়ি থেকে আনা টিফিনটা পুরোটাই বাড়িতে ফেরত নিয়ে যেতাম।হাইস্কুলেও এরকম করেছি হামেশাই।কলেজ-ইউনিভার্সিটি পড়াকালীন যেসব দিনে ছুটি হতে দেরি হত,পেট ভরাতাম ফুচকা,ডালবড়া,ফিসফ্রাই,চিকেন কাটলেট এসব দিয়ে,তারপর বাড়ি ফিরে এসে ম্যাগি খেতাম,আর তারপরেই ম্যাগিঘুম (ভাতঘুম তো আর বলা যাবে না,কারণ ভাত খেতে কোনোদিনই ভালোবাসিনা,যদি না সাথে বেশ টেস্টি কিছু তরকারি বা তেলেভাজা থাকে) দিতাম জমিয়ে।কিন্তু এত অনিয়ম সত্ত্বেও অ্যাসিডিটি কাকে বলে জীবনেও জানতাম না।তারপর এল করোনা।করোনার জন্য পুরো একবছর বাইরের খাবার বন্ধ হয়ে গেল।আমার পেয়ারের জল ফুচকা,দই ফুচকা,পাপড়ি চাট,চুরমুর,ডালবড়া,মোমো,বিরিয়ানি,চাউমিন এরা এসে স্বপ্নে কান্নাকাটি শুরু করল,আমায় নাকি ভীষণ মিস করছে ওরা!দিনের পর দিন ব্যাজার মুখে শুধু ভাত,রুটি এসব খেয়েই দিন চলতে লাগল আমার,আর একটা অবাক কান্ড শুরু হল!যে আমার সারাজীবন রাজ্যের যত বাইরের খাবার খেয়েও অ্যাসিডিটির 'অ্যা'ও হয়নি,সেই আমার বাড়ির ভাত রুটি তরকারি খেয়ে রাতের পর রাত বুক জ্বালা পেট জ্বালা শুরু হল,কাটতে লাগল ঘুমহীন রাত।ওষুধ খেয়ে,জোয়ান খেয়ে,হেঁটেচলে বেড়িয়েও অ্যাসিডিটি থেকে নিস্তার পাওয়া গেল না!তারপর প্রায় একবছর পর,এই ২০২১-এর মার্চেই একদিন রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে প্রাণভরে জল ফুচকা,টকজল,দই ফুচকা খেয়েছি,তারপর ডালবড়া নিয়ে এসেছি বাড়িতে,এসে খেয়েছি।ও বাবা,তারপর থেকেই দেখছি অ্যাসিডিটি হাওয়া!
শেষমেশ আবিষ্কার করলাম অ্যাসিডিটির মোক্ষম ওষুধ,বুঝলেন কিনা!
0 মন্তব্যসমূহ