Advertisement

মিথ্যে কান্না

মিথ্যে কান্না
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

ইলা প্রায় কয়েকমাস হয়ে গেল অভিজিতের কাছ থেকে পাঁচহাজার টাকা ধার নিয়েছিল।অভিজিৎ সরল মনে বন্ধু হিসেবে টাকাটা দিয়েছিল ইলাকে।ইলা বলেছিল,একমাসের মধ্যেই টাকা ফেরত দিয়ে দেবে সে।
  কিন্তু বছর ঘুরতে চলল,তবু টাকা ফেরত দেবার নাম নেই ইলার।অভিজিৎ মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে,পাঁচ হাজার টাকাটা তার কাছে বেশ প্রয়োজনীয়।যতবারই সে টাকাটা চাইতে যায়,ইলা কিছু না কিছু অজুহাত দিয়ে তাকে ফিরিয়ে দেয়।ভদ্র অভিজিৎ বেশি কিছু বলতে পারেনা।
    একদিন সমস্ত ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল অভিজিতের।সে ফোন করে রীতিমতো কড়া ভাবেই চাইল টাকাটা।ইলা টাকা ফেরত তো দিলই না,উলটে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে ব্লক করে দিল।শেষমেশ ইলার বাড়ি গিয়েই উপস্থিত হল অভিজিৎ।তবুও টাকাটা ফেরত দিল না ইলা,উলটে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিল।ফেরার সময় অভিজিৎ বলে গেল,'তোর ভালো হবে না দেখে নিস,ঠগ!'
      ঠগ কথাটা শুনে মাথায় রক্ত চড়ে গেল ইলার।সে ভাবল,তার বাড়িতে এসে তাকেই এভাবে অপমানের বদলা সে নেবেই।যেমন ভাবা তেমনি কাজ।সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিজিতের ছবি পোস্ট করে তার সম্পর্কে গুছিয়ে গুছিয়ে মিথ্যে লিখল সে।বহুদিন ধরেই যে সে অভিজিতের দ্বারা অত্যাচারিত,নিপীড়িত হয়েছে এরকম ইতিহাস লিখল সে।
        মুহূর্তে ভাইরাল হল সেই পোস্ট।নারী হওয়ার সুবাদে ইলার মিথ্যে কান্না অচিরেই জায়গা করে নিল সকলের হৃদয়ে।
           সোশ্যাল মিডিয়া তো বটেই,এমনকি পাড়াপ্রতিবেশীরাও অভিজিৎ ও তার বাবা মাকে দেখলেই মুচকি হাসে,কানাঘুষো কথাবার্তা চলে।হার্টের রুগী অভিজিতের বাবা এমন অপমান সইতে পারেননি,পরলোকগমন করেন তিনি।অসহায় অভিজিৎ মাকে নিয়ে সে শহর ছাড়তে বাধ্য হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ