নারীবাদী
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
বিশ্বনাথবাবু ফেবুপাড়ার জনপ্রিয় এক নারীবাদী লেখক।কত মহিলা ফ্যান ফলোয়ার তার।প্রতিটি লেখা শত শত শেয়ার পায়,লাইকের বন্যা বয়ে যায়।অথচ বাড়িতে কিন্তু তিনি একেবারে অন্য মানুষ।ফেসবুকে যেমন প্রতিটি লেখায় নারীদের কোনো কষ্টই লিখতে তিনি ভোলেন না,তেমনই রান্নায় নুনটা ঠিকমত না হলে,চা একটু বেশি গরম হলে,একটা মারও স্ত্রীর গায়ের বাইরে ফেলেন না তিনি।পিঙ্কি অসহায় বাপ মা মরা মেয়ে,দাদারাও খোঁজ নেয় না বোন মরল কি বাঁচল,তাই বেচারা এতদিন স্বামীর হাতে মার খেয়ে কোনোরকমে পড়ে ছিল।
হঠাৎই একদিন পিঙ্কির কলেজ জীবনের এক বন্ধু সুরজিৎ বিশ্বনাথবাবুদের পাড়ায় বাড়ি কিনে চলে আসে।কিছুটা হলেও যেন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে পিঙ্কি।একদিন রাতে যখন বিশ্বনাথবাবু গভীর ঘুমে মগ্ন,তখন পিঙ্কি ভাবে,'এই সুবর্ণ সুযোগ জানোয়ারটার হাত থেকে পালাবার,'এই ভেবে তাড়াতাড়ি সুরজিতের বাড়ি চলে যায় সে,কারণ সে আশা করেছিল,একমাত্র সুরজিৎ ই পারে তাকে বাঁচাতে।
কলিংবেলের আওয়াজে দরজা খোলে সুরজিৎ, 'পিঙ্কি তুই?এত রাতে?কেমন আছিস বল।মনে আছে,কলেজে কত ভালো বন্ধু ছিলাম আমরা,তারপর বিয়ের পর তো আর যোগাযোগও রাখলি না!
— 'কিভাবে রাখব বল,ওই পশুটা যে আমার ফোনটাও কেড়ে নিয়েছে',কাঁদতে কাঁদতে নিজের জীবনের সব ঘটনা খুলে বলল পিঙ্কি।
প্রিয় বান্ধবীর এমন দশা শুনে রাগে কাঁপতে থাকে সুরজিৎ।পিঙ্কির হাত ধরে সে বলল,'চিন্তা করিস না,তোর বন্ধুর কাছে যখন একবার এসেছিস সে তোকে ঠিক রক্ষা করবে।আপাতত ওই ফেক নারীবাদীর মুখোশ খুলতে হবে সবার কাছে।'
সুরজিতের বাড়িতে সে ছাড়াও তার মা,বাবা ও বোন থাকে,পিঙ্কিকে সে ওই রাতে বোনের ঘরেই থাকতে বলে।
পরেরদিন সকালে মোবাইলটা খুলতেই সুরজিৎ হতবাক।সোশ্যাল মিডিয়ায় তার আর পিঙ্কির নামে খারাপ কথা বলছে সকলে,এমনকি তার ইনবক্সেও নোংরা মেসেজের পাহাড়।
বিশ্বনাথবাবু আসলে আগের রাতে পিঙ্কির বাড়ি থেকে পালিয়ে আসার সময় তার পিছু নিয়েছিলেন,আর সুরজিৎ ও পিঙ্কির কিছু ছবিও মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন,যে ছবিতে দেখা যাচ্ছিল পিঙ্কি সুরজিতের হাতদুটো ধরে কাঁদছে।ছবিগুলো সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তিনি যা লেখেন তার সারমর্ম এই,যে পিঙ্কি আর সুরজিৎ পরকীয়ায় লিপ্ত, এবং বিশ্বনাথবাবুকে এতদিন ধরে ঠকিয়েছে পিঙ্কি।তবুও পিঙ্কিকে তিনি আজও ভালোবাসেন,পিঙ্কি যদি আজও তাঁর কাছে ফিরে আসতে চায়,তিনি বুকে টেনে নেবেন তাকে।মুহূর্তে ভাইরাল হয় সেই পোস্ট।পিঙ্কি আর সুরজিতের গায়ে কাদা ছেটাতে থাকে সোশ্যাল সমাজ।এমনকি কর্মক্ষেত্রেও হেনস্থার শিকার হতে হয় সুরজিৎ কে।
0 মন্তব্যসমূহ