Advertisement

সুবিধা

সুবিধা
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

 তৃণা বাসে উঠেই সামনে একটা ফাঁকা লেডিস সিট দেখতে পেয়েই বসে গেল তাতে।তা দেখে উল্টোদিকে দাঁড়ানো কিছু কলেজপড়ুয়া ছাত্র টোন কাটল, 'সত্যি মেয়ে হয়ে জন্মানোর কি সুবিধা মাইরি!কত্ত সহজে সব কিছু পাওয়া যায়!'
  তৃণা তার মা বাবার দ্বিতীয় সন্তান,কন্যাসন্তান! প্রথমবার পুত্রসন্তানের পর তৃণার মা বাবার বড় আশা ছিল,এবারেও আর একটি পুত্র জন্মাবে ঘর আলো করে!তৃণা তাঁদের সে আশায় জল ঢেলে দিয়েছে,তাই তার জন্মের পরেই কেবল বিরক্তি আর রাগের শিকার হয়েছে মা বাবার।সে দেখেছে,দাদার মুখ থেকে কথা খসার আগেই তার হাতে সব দিয়েছেন মা-বাবা।এমনকি খাওয়ার সময় বড়ো মাছের পিসটা,ফল মিষ্টি দুধ এসব দাদার ভাগেই যেত,তারপর অবশিষ্ট টুকু আসত তার পাতে।এদিকে তৃণা মাসের শেষে টিউশন ফি চাইতে এলে বাবার ভ্রূ কুঁচকাতো।

_________________________

একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ :  পড়ুন

_________________________

 তৃণা চেয়েছিল নিজের পায়ে দাঁড়াতে,কিন্তু বাবা একরকম জোর করেই তার বিয়ে দিয়ে দেন নিজের পছন্দের পাত্রের সাথে।সে পাত্রের আবার অন্য পাত্রী ছিল,বিয়ের দু'মাস পরেই তৃণা তাই বাধ্য হয় শ্বশুরবাড়ি ছাড়তে।চলে আসে বাপেরবাড়িতে।সেখানে উঠতে বসতে কথা শুনতে হয় বাবা মার কাছে,দাদার এখনো বিয়ে হয়নি,ঘরে বিয়ে ভাঙা মেয়ে বসে আছে শুনলে আর কোনো মেয়ের বাবা এবাড়িতে মেয়ে দেবে?
 একটা ছোট চাকরি জোগাড় করেছে তৃণা অতিকষ্টে,তাতে তার পেটটুকু দিব্যি চলে যাবে।আর চাকরি পাওয়ার পরের দিনই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে সে,উঠেছে এক লেডিস পিজিতে।তার মতো আরও অনেক মেয়ে আছে সেখানে,যারা কাছের মানুষদের সাথে প্রতিনিয়ত লড়াই করে স্বনির্ভর হয়েছে।গতকাল সে আর তার রুমমেট ওষুধের দোকানে এসেছিল স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে।কিনে বেরোচ্ছিল যখন তারা দোকান থেকে,দোকানের সামনে বসে থাকা কিছু পুরুষের মতো দেখতে অমানুষ টোন-টিটকিরি করেছিল তাদের।এছাড়া রাস্তাঘাটে কিছু নোংরা হাতের স্পর্শ তো আছেই!আছে সোশ্যাল মিডিয়ায় অচেনা লোকদের ইনবক্সে পাঠানো নোংরা মেসেজও!
 দীর্ঘশ্বাস ফেলে তৃণা ভাবে,'সত্যিই, মেয়ে হয়ে জন্মানোর কত সুবিধা!'

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ