সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
দুটো মেয়েই বড্ড অবহেলিতা,নিন্দিতা,অপমানিতা,
সেই কোন্ কচি বয়স থেকেই,
নাম তাদের সোমালি আর ইপ্সিতা,
তথাকথিত বাহ্যিক সৌন্দর্য্য ছিল না যে ওদের,
হাসত সকলে ওদের দেখে,পাড়া প্রতিবেশী আত্মীয়স্বজন নাক কুঁচকে বলত, 'এ মেয়েদের বিয়ে করবে কে?'
বয়স বাড়ল আস্তে আস্তে,স্কুল ছেড়ে কলেজের পথে পা বাড়াল তারা,
সেখানেও বডি শেমিং করা হত তাদের নিয়মিত,
ছেলেদের চেয়ে মেয়েরাই বেশি লিপ্ত হত এই কাজে,
মেয়েদুটো প্রেমে পড়ল দুটো ছেলের,
আবারও অপমানিত হল তারা,
'আয়নায় দেখিস নিজের মুখ?' বলে তাড়িয়ে দিল তাদের মনের মানুষেরা,
সহ্য করতে পারল না ওরা এত অপমান,
বাড়ি এসেই কোলবালিশে মুখ গুঁজল দুই মেয়ে,জলে ভিজে গেল তোষক,
সোমালির চোয়াল শক্ত হল,ঠিক করল অন্যায়ের জবাব সে দেবে,
গভীর রাতে অন্ধকার গলিতে অ্যাসিডে ঝলসে দিল তার ক্রাশের মুখ,
জেল হল সোমালির,তবু আক্ষেপ নেই এতটুকু,
যে রূপের এত অহংকার ছিল সে পুরুষের,তার রূপ সে নষ্ট করতে সক্ষম হয়েছে,এই তার মনের ভাবনা,
কিন্তু ইপ্সিতার গল্পটা একটু আলাদা,
সেও চেয়েছিল তার ক্রাশকে জবাব দিতে,
তাই সেই রাতেই হাতে তুলে নিল বই,অ্যাসিড নয়,
ঠিক করল,অপমানের জবাব সে এই বই দিয়েই দেবে,
বছর গড়াতে লাগল,ইপ্সিতা একের পর এক পরীক্ষায় প্রথম হতে লাগল,
সোকেস সেজে উঠল গোল্ড মেডেল-মেমেন্টো-বইয়ে,
সেসবের ভিড়ে হারিয়ে গেল কতশত বিউটি ক্রিম,
আরও বছর গেল অনেক,ইপ্সিতা আজ কলেজে পড়ায়,
কলেজ জীবনের ভালোবাসার মানুষটি এসেছিল তার কাছে ক্ষমা চাইতে,
বিনম্র হাসিমুখে ফিরিয়ে দিয়েছে ইপ্সিতা তাকে,
কারণ সে যে একেবারেই যোগ্য নয় ইপ্সিতার,
সেই বিকেলে দুটো মেয়েই হয়েছিল অপমানিত,
বিপরীতের মানুষটির জন্য আনা লাল গোলাপ মাড়িয়ে চলে গিয়েছিল ছেলে দুটো,
জবাব দিল দুজনেই,জবাবের রাস্তাদুটোর দূরত্ব ছিল লক্ষ আলোকবর্ষ,
আর এই দূরত্বটুকুই সমাজের চোখে দুটো আলাদা জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করেছে দুই মেয়েকে,
এক মেয়ে নিমজ্জিত অন্ধকারে,অন্যজন হয়ে উঠেছে আলোর উৎস,
আসলে জীবন মানুষকে সেই পরিণতিতেই নিয়ে চলে,যে পথ সে নিজে পছন্দ করেছে।
0 মন্তব্যসমূহ