Advertisement

জীবন্ত দুর্গা


জীবন্ত দুর্গা
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী

অষ্টমীর সন্ধ্যে। নিঝুম আলমারি থেকে লাল পাড় শাড়িটা বের করল। ঋদ্ধিমানকে নিয়ে একটু পরেই বেরোবে সে, পুজোমন্ডপে সন্ধিপুজো আধঘন্টার মধ্যেই শুরু হবে। ঋদ্ধির একটা পা কাটা গেছে গত বছর ট্রেন অ্যাক্সিডেন্টে। তারপর স্ত্রী নিঝুমই হয়ে উঠেছে অনাথ ঋদ্ধির মা, বাবা, বন্ধু সবকিছু,সর্বোপরি একটা বড় অবলম্বন।
— 'তোমায় দেখতে এক্কেবারে দুর্গাপ্রতিমার মতোই লাগছে নিঝুম।'
— 'ধুস, কি যে বলো না তুমি!' বলে লজ্জিত মুখে নিঝুম বলল, 'পাড়ায় এই পুজো শুরু হল বলে,চলো এই বেলা যাওয়া যাক, নইলে দেরি হয়ে যাবে।'
— 'আচ্ছা চলো।'
নিঝুম হুইলচেয়ারে বসে থাকা ঋদ্ধিকে নিয়ে এগিয়ে গেল মন্ডপের দিকে।মন্ডপে যাওয়ার পথে হঠাৎ কিছু বখাটে ছেলে ওদের পথ আটকে দাঁড়াল।ওদের মধ্যেই একজন টোন কাটল,'উফ মামণি,এত সুন্দরী হয়ে কিনা শেষে একটা খোঁড়া লোকের সাথে থেকে জীবন নষ্ট করবে?তা কি হয় বলো?'
অন্য একটি ছেলে পাশ থেকে বলে উঠল, 'সেই তো সেই তো! আমরা থাকতে তোমাকে কি কষ্টে থাকতে দেখতে পারি বলো?'
ঋদ্ধি উত্তেজিত হয়ে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, নিঝুম ওকে থামিয়ে দিয়ে বলল, 'প্লিজ আপনারা পথ ছাড়ুন,যেতে দিন আমাদের।'

_________________________

একটি সনির্বন্ধ অনুরোধ :  পড়ুন

_________________________


ছেলেগুলো হাসতে লাগল। হঠাৎ ওদের মধ্যে একজন এগিয়ে এসে নিঝুমের হাতটা টেনে ধরল।বাকি ছেলেগুলো তা দেখে আরও হাসতে লাগল,একজন বলে উঠল, 'ভাই শুধু তুই কেন?আমাদেরও একটু সুযোগ দে!'
ঋদ্ধির ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল এবার,ও চেঁচিয়ে উঠল, 'জানোযার! বাড়িতে মা নেই তোদের?'
— 'একটা খোঁড়া, নিজের পায়ে চলার ক্ষমতা নেই, বৌয়ের ভরসায় চলিস, এদিকে মুখে বড়ো বড়ো কথা!' বলেই দুটো ছেলে এগিয়ে গেল ঋদ্ধির দিকে।
নিঝুম এতক্ষণ সব সহ্য করছিল, এবার সহ্যের সীমা ছাড়াল তার। যে ছেলেটা ওর হাত ধরে রেখেছিল, তার হাতে জোড়ে কামড় বসাল সে। যন্ত্রণায় চিৎকার করে ছেলেটা ওর হাত ছেড়ে দিল। যে ছেলেদুটো ঋদ্ধির দিকে এগোচ্ছিল ওকে আক্রমণ করবে বলে,অতর্কিতে ওদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল নিঝুম। ক্যারাটে শেখা ছিল তার, কিল চড় ঘুষিতে কুপোকাত করে দিল সে ছেলেদুটোকে অনায়াসেই। এরপর অন্য তিনটে ছেলে ভীষণ আক্রোশে এগিয়ে আসতে লাগল নিঝুমের দিকে। ওদের মধ্যে সেই ছেলেটাও ছিল,যার হাত কামড়ে দিয়েছিল নিঝুম। হঠাৎ নিঝুম একটা ইঁট পড়ে থাকতে দেখল রাস্তায়।অতর্কিতে ইঁটটা হাতে তুলে নিয়েই নিঝুম আক্রমণ করল ওদের। ইঁটের আঘাতে লুটিয়ে পড়ল ওরা।নিঝুমের চোখদুটো তখন ভাঁটার মতো জ্বলছিল। ঋদ্ধির ওকে দেখে মনে হল,দুর্গা যেন মন্ডপে নয়, তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে জীবন্ত হয়ে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ