Advertisement

সূর্য


সূর্য 
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

— 'ও তপনদা শুনেছ!সূর্য নাকি মরেছে?'বিনয়বাবু বললেন।
— 'হ্যাঁ শুনিনি আবার!বেশি হিরোগিরি ফলাতে গেছিল কিনা,তাই অকালে প্রাণ গেল!'
— 'তাই না তাই!' পাশ থেকে রবীনবাবু ফুট কাটলেন,'সবাইকে চেঁচিয়ে বলত ওর নাকি শিরদাঁড়া হীরের মতো শক্ত,কোনোদিন নোয়াবে না,বোঝ এবার!'
— 'ওর বাপ-মারও বলিহারি শখ!আবার সাধ করে ছেলের নাম রেখেছে সুয্য!'
— 'যা বলেছ,তুই সেদিনের ছেলে,নাক টিপলে দুধ বেরোয়,সে গেছে নেতার ছেলেকে শিক্ষা দিতে!আরে বড়োলোক বাপের একমাত্র ছেলে মহিম,ও একটু মেয়েছেলে নিয়ে ফূর্তি করতেই পারে,তাই বলে তুই যাবি ওর সাথে গলা তুলে কথা বলতে?ব্যস,ওইজন্য মরতে হল!'
— 'আরে শুনেছি নাকি মহিম সেদিন যে মেয়েটাকে তুলে নিয়ে গেছিল তার সাথে নাকি সূর্যকে প্রায়ই দেখা যেত?কি জানি আবার কিছু...'
— 'ভাগ্যিস আমার ছেলেটা মরেছে,'হঠাৎই সেখানে হাজির সূর্যের বাবা,'নইলে দেখত ও কাদের জন্য জীবন বাজি রাখত!বিনয়বাবু,আপনার স্ত্রীর যখন সেই অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল,আমার ওই দুদিনের ছেলেটাই আপনার স্ত্রীকে রক্ত দিয়েছিল,তপনবাবু আপনার মেয়েকে যেদিন তার পুরোনো প্রেমিক জোর করে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছিল এক পোড়ো বাড়িতে,ওই হীরের তৈরি শিরদাঁড়ার ছেলেটাই এগিয়ে এসেছিল,রবীনবাবুর ছেলের অসভ্যতার জন্য হেডস্যার যখন স্কুল থেকে ওকে তাড়িয়ে দেবেনই পণ করেছিলেন,তখনও নাক টিপলে দুধ বেরোনো ছেলেটাই স্যারকে বুঝিয়েছিল।আর হ্যাঁ,ওই মেয়েটাকে আমার ছেলে ভালোবাসত,কোনো অস্বচ্ছতা নেই ওদের সম্পর্কে যে আপনাদের এই ভাবে নাকমুখ কোঁচকাতে হবে!আর আমি গর্বিত এমন ছেলের বাপ হতে পেরে,হ্যাঁ ও মরেছে,ভাগ্যিস মরেছে,নয়ত অকৃতজ্ঞ মানুষের নির্লজ্জতা সইতে পারত না।আর আজ আপনারা মহিমের গুণকীর্তন করছেন,আপনাদের ঘরেও তো স্ত্রী-কন্যা আছে,কাল যদি তাদের দিকে ওই জানোয়ার হাত বাড়ায় এভাবেই বলবেন তো?'

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ