Advertisement

নোনা হাওয়া

নোনা হাওয়া
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

আবার কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে ওই রাস্তাটার মোড়ে গিয়ে দাঁড়াব,যেখানে নোনা হাওয়া এসে চোখে মুখে এসে লাগে বেয়াদবের মতো,বালিতে চোখ কড়কড় করে।কিন্তু সেদিন আমার চোখে বালি পড়েও জ্বালা করেনি জানিস?তুই  বলতিস আমার লেখাগুলো নাকি ভীষণ জ্বালাময়ী,সিউডো ক্যান্সারের মতো,যে পড়ে তার ভেতরে ভেতরে অ্যাসিডের প্রবাহ হয়,হাসতাম।বলতাম তাহলে ভাব যে লেখে তার ভেতরে কত দাবানল চারা গুলোর শিরা উপশিরা পর্যন্ত ছেয়ে আছে।তুই হেসে বলতিস,হ্যাঁ লিখে যা,আমি তোর পাশে থাকব সারাটা জীবন।আমার থেকে কমসে কম আট বছরের বড়ো ছিলি তুই,কিন্তু লোকে খালি উল্টোটা ভাবত।মনে আছে তোর সেইদিনটার কথা,যেদিন রণিতদার সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দিলি?রণিতদা হেসে বলল রণিতদা আর আমার জুটিটা নাকি হেব্বি হবে,তুই সেদিন নাক-চোখ লাল করে সে কি অভিমান!শেষে আমরা আইসক্রিম খাইয়ে রাগ ভাঙালাম তোর।সাময়িক ভাঙল রাগ,কিন্তু পরে রণিতদাকে অনেক ছোটবড়ো কথা শুনিয়েছিলি,তোর মনে পড়ে?তুই আমাকে অবিশ্বাস করেছিলি,এতবড় কষ্টটাও তোর ছেলেমানুষি ভেবে গিলেছিলাম অ্যান্টাসিডের মতো,ভাবিনি পরে আরও ঝড় আসবে।তুই আমার থেকে অনেকটাই দূরে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলি নিজেকে,এটা বুঝেছিলাম।তারপর তোর বিয়ে ঠিক হয়ে গেল,কিন্তু তুই বললি আমি গেলে তুই বিয়ে করবিনা,আবারও একবুক কান্না গিলে যাইনি,কিন্তু তোর ভালো চেয়েছিলাম প্রাণপণে জানিস?এরপর আর কোনোদিন আমার মুখ তোকে দেখাইনি,কিন্তু আজ তোর মেয়ের সাথে হঠাৎই দেখা হয়ে গেল রাস্তায় জানিস?ভেবেছিলাম মুখ ঘুরিয়ে নেব,কিন্তু এ যে হুবহু তোর মতোই রে!সেই অভিমানী নাক,সন্দেহবাতিক পাকানো চোখ,যেন ছোট্টটি তুই!অদ্ভুত এইটুকু মেয়েটাও আমায় দেখে কেমন নাক কুঁচকালো,যেন ওর কাল রাতের হারানো চকলেটটা আমিই চুরি করে নোনা জলে ফেলে দিয়েছি,কিছুতেই বুঝবে না যে সাগর কোনোদিন মিথ্যা বলে না!আমি ওর নাম জিজ্ঞেস করতেই বলল,'তুই আমার ছোটমণি নোস তো?তাহলে কিন্তু আমি কথা বলব না।'
তুই বলতিস আমার লেখা জ্বালাময়ী, কিন্তু তুই এতটুকু একটা বাচ্চাকেও কেমন আগুনের গোলা তৈরি করেছিস সযত্নে! কিন্তু তুই জানিস,আমি ওকে নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসি।জানি তুই বিশ্বাস করবিনা,তাই তো তোর মেয়ের হোমটাস্কের খাতায় আমি লিখে দিয়েছি,আগুন নিয়ে খেলিস না,আশাকরি তোর চোখে পড়বে।
হাজার হোক,তুই তো আমার সহোদরা,তুই নিজের লাগানো আগুনে একদিন নিজেই পুড়বি এমনটা কি করে হতে দিই বল?তার চেয়ে আগুনটা আমায় দিস,যত্নে তুলে রাখব কলমের আগায়,প্রয়োজন হলে আবারও তেতো ওষুধের মতো গিলব,যতই হোক,আমি তো তোর ছোটবোন,নোনা হাওয়া আমায় জ্বালাক,তুই না হয় ঠান্ডা হাওয়ায় গা এলিয়ে মেয়ের হোমটাস্ক করাস।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ