Advertisement

নিজেকে ভালোবাসুন

              
                                  
নিজেকে ভালোবাসুন
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী


১) লম্বা মেয়েটি হিল জুতো পরতে ভালোবাসে। এতদিন পরতে পারেনি সমাজের টোনের ভয়ে, 'একেই তালগাছের মতো লম্বা, তায় হিল জুতো!' অনেকে তো এও বলত, 'এত লম্বা মেয়ের জন্য পাত্র খুঁজে পেলে হয়!'
মেয়েটি আজ হিল জুতোই পরে, এবং তার স্বামীর উচ্চতা তার থেকে কম, কিন্তু সমাজকে পাত্তা দেয়নি ওরা, কারণ ওদের ভালোবাসা সমাজের কিছু মানুষের বাঁকা কথার চেয়ে অনেকগুণ বেশি।


২) মেয়েটি কালো, তাই সমাজের ছুঁঁচবিঁধোনো কথা তাকেও কম আঘাত করেনি।
আজ সে স্কুল শিক্ষিকা। কত ছাত্রছাত্রীর অনুপ্রেরণা ও আজ। সেদিন যারা ওকে বাঁকা কথা বলত, আজ তারাই নিজেদের সন্তানকে নিয়ে আসে তার কাছে পড়াশুনার জন্য। বাড়িতে কোনো ফেয়ারনেস ক্রিম সে রাখে না, যে অন্যের মনের অন্ধকার দূর করে শিক্ষার আলো জ্বালে, বিদ্যাই যার সম্পদ, চামড়ার রঙে তার কি আসে যায়!


৩) ছেলেটা প্রতিবার পরীক্ষায় কোনো না কোনো সাবজেক্টে ফেল করত। মাধ্যমিক টেনে হিঁচড়ে পাস করার পর সমাজ নাক কুঁচকে বলেছিল, ও ছেলেকে পড়িয়ে টাকা নষ্ট কোরো না। কাজে পাঠিয়ে দাও।
 ওর বাবা-মা সবসময়ই ওর পাশে ছিলেন। হ্যাঁ পড়াশুনায় খুব একটা ভালো ছিল না ঠিকই, তবে গানের গলা ছিল মন ছুঁয়ে নেয়ার মতো। আজ ও দেশের বড় বড় সিঙ্গারদের মধ্যে অন্যতম।


৪) ছেলেটির ৩৫ বছরের মধ্যেই টাক পড়ে গিয়েছিল, তাই সে পরচুলা পরে রাস্তায় বেরোতো। তবু হাসিঠাট্টা বন্ধ হয়নি তাকে নিয়ে।
ছেলেটি মাঝেমধ্যেই রাস্তাঘাট, স্টেশন, অনাথ আশ্রমে যায় দুঃস্থদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে। আজ আর সে পরচুলা পরে না, যে মাথায় অনেক মানুষের আশীর্বাদ রয়েছে সে মাথায় নকল চুল শোভা পায় না যে!

নিজেকে ভালোবাসুন, ভরসা রাখুন নিজের যোগ্যতার ওপর, সমাজকে পিছনে ফেলে একদিন জয় আপনার হবেই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ