সুচন্দ্রা চক্রবর্তী
১) - 'হ্যালো স্যার, আজ একটা বড়োসড়ো দাঁও মেরেছি।'
- 'তাই?তা কি পেয়েছ?আমি যতক্ষণ না হাতানো মালগুলো দেখছি বিশ্বাস করতে পারছি না তোমাদের মত অকর্মাদের।'
- 'হ্যাঁ স্যর,আমরা এক্ষুনি আসছি।'
রাকেশের সাগরেদরা একটা কাপড়ে পুঁটলি এনে রাখল ওর সামনে।
- 'উরিব্বাস,এ তো বেশ ভারী লাগছে রে!কি এনেছিস এতে?'
- 'একবার দেখুনই না স্যার,দেখলে আর আমাদের অকর্মা বলবেন না।'
পুঁটলিটা খুলেই চোখ ধাঁধিয়ে গেল রাকেশের,'একি রে!পুরো সিন্দুক ঝেঁপেছিস নাকি?'কিন্তু নাড়াচাড়া করতে গিয়ে কেমন চেনা চেনা লাগল ওর গয়নাগুলো,মনে হল আগে কোথাও যেন দেখেছে।বলল,'এগুলো কোথা থেকে হাতালি তোরা?'
- 'একটা উত্তর কলকাতার বাড়ি স্যার,বাড়িতে শুধু বুড়ি আছে একটা,আর কেউ নেই।ব্যস,একটা ছোরা দেখালাম,ভয়ে সব সুড়সুড় করে বের করে দিল।'
হঠাৎ রাকেশের ফোনটা বেজে উঠল।ওপারে রাকেশের মায়ের ভয়ার্ত গলা,'তাড়াতাড়ি বাড়ি আয় বাবু,একটু আগে কয়েকটা লোক এসে আমায় ছোরা দেখিয়ে সব গয়নাগাঁটি নিয়ে চলে গেল।আর হ্যাঁ বাবা,বাড়ি আসার আগে একবার থানায় ডায়েরি করে আসিস।'
২) -'হ্যাঁ রে,একটা ঝাক্কাস মাল গেল না রে?'সুব্রত বলল।
- 'হুম,আলোটা এত আবছা যে দেখতেই পাচ্ছি না ভালো করে।'রণিত বলল।
- 'তাতে কি,দাঁড়া,ভালো করে দেখার ব্যবস্থা এখুনি করছি।'
- 'কি করবি?'
- 'একটু দাঁড়া না বস।'
সুব্রত চেঁচিয়ে বলল,'ও মামণি একটু দাঁড়াও না,মেয়েমানুষের আবার অত তাড়া কিসের?'
মেয়েটা একবার পিছন ফিরে তাকাল,তারপর ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটতে শুরু করল।
- 'এই দাঁড়া দাঁড়া!কোথায় পালাবি ছুটে?আমাদের হাত থেকে পালাবি?'
রণিত আর সুব্রত ছুটতে শুরু করল মেয়েটার পিছনে। আবছা আলোয় হোঁচট খেয়ে মেয়েটা পড়ে গেল,আর সুব্রত আর রণিত খুব সহজেই ধরে ফেলল ওকে।মেয়েটা প্রাণপণে চেঁচাতে লাগল,'বাঁচাও,কে কোথায় আছ?'
রণিত 'তবে রে'বলে মেয়েটার মুখ চেপে ধরল সজোরে।কিন্তু সুব্রতর গলাটা কেমন চেনা ঠেকল।তাড়াতাড়ি নিজের মোবাইলটা বের করে মোবাইলের আলোটা জ্বালাল।
- 'রিমি তুই?'
- 'দাদা তুই এখানে?'
রণিত কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল,সুব্রত বলল,'থাম শুয়োর, ও আমার বোন।'
- 'ছি!দাদা,আজ আমি তোর বোন বলে তোরা ছেড়ে দিলি,যদি কোনো অচেনা মেয়ে হত তাহলে?কি করতিস?'
0 মন্তব্যসমূহ