Advertisement

স্বভাব

স্বভাব
সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 

অরিন্দমবাবু আর নিপাদেবীর দুই যমজ পুত্রসন্তান,একজন রাহুল,আর অন্যজন ইমন,যদিও চেহারায় মিল নেই তাদের বিশেষ।দুজনেই স্কুলে পড়ে ক্লাস টেনে,সামনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা।অরিন্দমবাবু রোজ রাতে মদ খেয়ে ফিরে স্ত্রীকে অত্যাচার,অপমান,অসম্মান করেন।কখনো নিপাদেবীর গায়ে হাত তোলেন,আবার কখনো অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।অনেকদিন ধরেই নিপাদেবী একটা চাকরি খুঁজছেন হন্যে হয়ে,আর সেই খবরটা কোনোভাবে কানে পৌঁছেছে অরিন্দমবাবুর।তাই আজ বাড়ি ফিরেই স্ত্রী নিপাদেবীর উপর চলল অকথ্য নির্যাতন।দুই ছেলের চোখেই ঝরছিল ঘৃণার আগুন।
 বারো বছর কেটে গেছে।রাহুল আর ইমন দুজনেই মেধাবী ছাত্র ছিল,পড়া শেষের পরেই ভালো চাকরি পেয়েছে দুজনেই।বিয়ে হয়ে গেছে দুজনেরই,রাহুলের স্ত্রী সাগরিকা আর ইমনের স্ত্রী স্বচ্ছতোয়া দুজনেই গৃহবধূ।
 রাহুল স্ত্রীকে নিয়ে বাবার কাছে থাকে,আর বাবা যে ব্যবহার মা নিপাদেবীর সাথে করতেন,সেই একই ব্যবহার রাহুল করে সাগরিকার সাথে।
 অন্যদিকে ইমন স্বচ্ছতোয়াকে নিয়ে মায়ের কাছে থাকে।বিয়ের পরেরদিনই ইমন স্ত্রীর হাতদুটো ধরে কথা দিয়েছিল, 'আমি কোনোদিন স্বামীর অধিকার ফলাব না তোমার উপর।তোমার ইচ্ছেকে সারাজীবন সম্মান করব।'
 মানুষের স্বভাব কেমন হবে তা কিছুটা বাড়ির শিক্ষা বা পরিবেশের উপর নির্ভর করলেও কিছুটা স্বভাব জন্মগতই হয়,আর সেই স্বভাবই নির্ধারণ করে যে সেই মানুষ সুশিক্ষা নেবে,না কুশিক্ষা।বারো বছর আগে অরিন্দমবাবু যখন নিপাদেবীর উপর অত্যাচার করতেন,তখন দুই ছেলেরই চোখে আগুন ঝরত,ঘৃণার আগুন,তবে ভিন্ন।রাহুলের ঘৃণা হত মায়ের প্রতি,আর ইমনের হত বাবার প্রতি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ