Advertisement

প্রত্যাখ্যান



প্রত্যাখ্যান

সুচন্দ্রা চক্রবর্তী 


— 'আজকাল আমায় এত অল্পেই কথা শোনাও কেন অলি?কি অন্যায় করেছি আমি?'

— 'উফফ কিছু হয়নি।আরে বাবা দিনে হাজারবার ফোন করে ডিস্টার্ব কেন করো বলো তো?আমি বিজি থাকি জানো না?'

— 'অলি,তুমি তো জানো,দিনে অন্তত একবার তোমার গলাটা না শুনলে আমি শান্তি পাইনা,তাই তো দিনে একটিবার তোমাকে ফোন করি,তুমি তাতেও কেন রাগ করছ গো আজকাল?'

— 'হ্যাঁ তোমার আমার গলা শুনতে ইচ্ছা করে অভীক,আমার তো করে না!এইভাবে এত মেসেজ ফোন করলে আমি কিন্তু তোমায় ব্লক করে দিতে বাধ্য হব,মাইন্ড ইট!'

— 'তোমার কিছু একটা হয়েছে অলি তাই তুমি এরকম করছ,কি হয়েছে বলো না?'

— 'অদ্ভুত তো!আরে বলছি তোমার সাথে কথা বলতে আমার ভালো লাগে না,তাও এত ফালতু বকো কেন?আমি রাখছি ফোনটা,আমার কাজ আছে অনেক,বাই।'

 অভীকের কথা শেষ করতে না দিয়েই ফোনটা কেটে দিল অলিভিয়া।আগামী পরশু বিলাসরা ওর বাড়িতে পাকা কথা বলতে আসছে।বিলাস বোস একজন নামকরা গায়ক,বছর সাতেক আগে একটা রিয়্যালিটি শো থেকে সে উঠে এসেছিল,এখন অনেক নামখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে তার চারিদিকে।বেশ কয়েকটা বাংলা মুভিতে গানও গেয়েছে সে।ভবিষ্যতে রাজ্যের বাইরেও গান গাইবার ভীষণ ইচ্ছা তার।বিলাসের এক বড়ো ফ্যান ছিল অলিভিয়া,তার মোবাইলের গ্যালারি জুড়ে বিলাসের ছবি,গানের ভিডিও।অলিভিয়ার বিলাসকে নিয়ে এই পাগলামো তার বন্ধুমহলে,এমনকি বাড়িতেও কারোর অজানা ছিল না।বিএ ফাইনাল ইয়ারে পড়ে অলিভিয়া।অন্যদিকে অভীকের কথাটা বাড়িতে কাউকে জানায়নি অলিভিয়া।অভীক পেশায় একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের  ইতিহাসের শিক্ষক।তার সাথে অলিভিয়ার সম্পর্ক প্রায় চারবছর ধরে।অভীকের মা খুব ভালোবাসেন অলিভিয়াকে।অভীকের বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল অলিভিয়ার।সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল,হঠাৎ অলিভিয়াদের পাশের বাড়ির মালিক নিজেদের বাড়ি বিক্রি করে দেন বিলাসের পরিবারকে।অনেকদিন ধরেই বাড়ি বিক্রির জন্য চেষ্টা করছিলেন তিনি।কারণ ইদানিং তাঁর ব্যবসায় মন্দা চলছে,তাই কলকাতার বড়ো বাড়িটা বিক্রি করে দেশের বাড়ি ফিরে যেতে চেয়েছিলেন তিনি।ঘটনাক্রমে বিলাসই বাড়িটা কেনে এবং পরিবার নিয়ে ওই বাড়িতে উঠে আসে।যেহেতু অভীকের কথাটা বাড়িতে কেউ জানে না,তাই অলিভিয়ার মা-বাবা ভীষণভাবে চেষ্টা করতে লাগলেন বিলাসের সাথে নিজের মেয়ের বিয়ে দিতে,কারণ বিলাসকে নিয়ে মেয়ের পাগলামো জানতে বাকি নেই তাদের।কথাটা মেয়েকে জানাতেই সে একপায়ে খাড়া।অভীককে এখন শুধুই বিরক্ত লাগে তার,একটা বোঝা মনে হয় তাকে।বিলাসকে পাওয়ার পথে অভীককে একটা বাধা বলে মনে হয় অলিভিয়ার।অন্যদিকে বিলাসের বাড়িতে এখন নিয়মিত যাতায়াত অলিভিয়ার।প্রথম দিকে তেমন পাত্তা দেয়নি বিলাস অলিকে,কারণ অলির মতো অনেক মহিলা ফ্যান ফলোয়ার তার আছে।কিন্তু বিলাসের মা বাবার পছন্দ হয় অলিভিয়াকে।কারণ অলিভিয়া যেমন রূপে অসামান্যা,তেমনই হাতের গুণ।রকমারি দেশিবিদেশি রান্না জানে সে।মা বাবার কাছে অবিরত প্রশংসা শুনতে শুনতে একসময় বিলাসও রাজি হয় অলিভিয়াকে বিয়ে করতে।অন্যদিকে অভীকের সাথে যোগাযোগ ক্রমশ কমে আসে অলিভিয়ার,অভীককে আজকাল শুধুই কারণে অকারণে কথা শোনায় অলি।তাকে নিজের জীবন থেকে চলে যেতে বলেছে বারবার,কিন্তু অভীক হাত ছাড়েনি তার।সে যে তার অমূল্য সম্পদ অলিকে হারাতে চায় না কিছুতেই।কিন্তু কোনোকিছুই যে একতরফা হয় না।একদিন অভীক অলির এক বন্ধু মারফত জানতে পারে বিলাসের সাথে অলির বিয়ের কথা।প্রচন্ড মানসিক কষ্ট নিয়ে সে বেরিয়ে আসে অলির জীবন থেকে,শেষবারের মতো অলিকে দেখা করে বলেছিল,'সুখী হোয়ো।'

অলি বিরক্ত মুখে উত্তর দিয়েছিল,'সেটা তোমার না ভাবলেও চলবে।বিলাস আমায় অনেক সুখী রাখবে।'

 এমন একজন তার জীবনে আসতে চলেছে যে একজন স্টার,যার পেছনে তারই মতো অনেক মেয়ে ঘুরে বেড়ায় পাগলের মতো শুধুমাত্র তার অটোগ্রাফ নেবে বলে।ভেবেই গর্বে বুক ফুলে ওঠে অলির।আজকাল তার বন্ধুদের সাথেও আর তেমন যোগাযোগ রাখে না অলি,কারণ তার স্ট্যান্ডার্ড ওদের থেকে অনেক আলাদা বলে মনে করে অলি।বন্ধুরাও তার অহমিকা দেখে দূরে সরতে থাকে তার থেকে।অন্যদিকে অভীকও তাকে আজকাল আর 'বিরক্ত' করে না,তাই বেশ নিশ্চিন্ত অলিভিয়া।

 আগামী পরশু বিলাসরা আসছে অলির বাড়িতে।দেখা সাক্ষাৎ তো আগেই হয়ে গেছে,এখন শুধু পাকাকথার পালা।

 দেড়মাস পরেই বিয়ের তারিখ ঠিক হয় অলির।বিয়ের সপ্তাহ খানেক আগে একটা প্রি ওয়েডিং পার্টি অ্যারেঞ্জ করে বিলাস।অলি তখন বেশ অসুস্থ,কিছুদিন আগেই চিকেন পক্স কাটিয়ে উঠেছে সে।এই সময় বাড়ি থেকেই বেরোতে ইচ্ছা করছিল না তার,আর রিচ খাওয়াদাওয়া আর নাচগান থেকেও দূরে থাকতে ইচ্ছা করছিল তার।সেকথা বিলাসকে বলতে যেতেই ঝাঁঝিয়ে উঠল বিলাস,'সবটা তোমার আমার ইচ্ছেমতো হয়না অলি।কত মিডিয়া আসবে পার্টিটা কভার করতে,তারা যদি এসে দেখে পাত্রীই নেই পার্টিতে,' রংচঙ মাখিয়ে ওরা যা খবর ছড়াবে তাতে আমার সম্মান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে ভাবতে পারছ?'

 — 'বুঝতে পারছি বিলাস,কিন্তু... '

— 'কিন্তু বলার কোনো জায়গা নেই এখানে অলি।আমি গাড়ি পাঠিয়ে দেব,মেকাপ আর্টিস্টদেরও তোমার বাড়িতেই পাঠানোর ব্যবস্থা করব,কিন্তু প্লিজ না বোলো না অলি।'

 বিলাসের অনুরোধ ফেলতে পারেনা অলি।রাজি হয়ে যায় সে।

 অলি যে অসুস্থ,ভুগে ভুগে চোখের তলায় কালি পরে গেছে,গালে হাতে পক্সের দাগ,সমস্তকিছু ঢাকতে হবে তাকে,নয়তো আবার হয়ত ক্রিটিসাইজ করবে পাবলিক তাকে নিয়ে,লোকে বলবে,বিলাস বোস এ কাকে বিয়ে করছে?

 ভীষণ শারীরিক দুর্বলতা নিয়েই গাড়িতে উঠে পড়ল অলি।চোখটা একটু লেগে এসেছিল তার,স্বপ্নে হঠাৎ অভীককে দেখল সে।আগের বছরে অলির পুজোর সময় হঠাৎ ডাইরিয়া হয়েছিল,তাই সেবার  পুজোর প্ল্যানই ক্যান্সেল করে দিয়েছিল অভীক।বন্ধুদের সাথে সেবার রাজস্থান যাওয়ার প্ল্যান ছিল অভীকের,কিন্তু অলির অসুস্থতার কথা শুনে যাওয়ার ইচ্ছেটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল তার,সে বাড়িতেই ছিল,আর নিয়মিত অলির বাড়ি আসত তাকে দেখতে,যদিও একজন বন্ধুর পরিচয়ে।অলির মা বলেছিলেন,'কি ভালো রে মা তোর বন্ধুটা।এযুগে এমন বন্ধু পাওয়াই যায় না যে বন্ধুর এত যত্ন নেয়,ওকে কোনোদিনও দূরে সরিয়ে দিস না যেন!'

 হঠাৎই ঘুম ভেঙে গেল অলির।তার হঠাৎ মনে হল অভীক যেন তার কানে কানে ব্যঙ্গ করে বলছে,'কেমন আছ অলি?বিলাস খেয়াল রাখছে তো ঠিকঠাক!' 

 অলি জবার দিতে যাবে এমন সময় দেখল বিলাস দাঁড়িয়ে আছে গাড়ির সামনে,ক্লাবে পৌঁছে গেছে তাদের গাড়িটা।

 ভালোভাবে হাঁটারই ক্ষমতা ছিল না অলির,কিন্তু বিলাস বিরক্ত হবে ভেবে ওর সাথে খুব কষ্ট করে ডান্স করতে লাগল।তার শরীরের প্রতি বিলাসের যেন কোনো খেয়ালই নেই।সে ব্যস্ত নিউজ চ্যানেলের রিপোর্টারদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে,আমন্ত্রিতদের সাথে গল্প আড্ডা দিতে।অলির হঠাৎ মাথা ঘুরে উঠল,ও একটা সোফায় বসে পড়ল।হঠাৎ বিলাস এল অলির কাছে,'দেখো অলি আমি বুঝতে পারছি তুমি অসুস্থ,কিন্তু আমি নিরুপায়।আজকের ডেটটা আমি বহুদিন আগে ঠিক করেছি,তখন তো তুমি অসুস্থ ছিলে না।প্লিজ আজকের দিনটা কষ্ট করে ম্যানেজ করে নাও।'

 — 'ঠিক আছে বিলাস।'করুণ সুরে বলল অলি।

 এরপর এগিয়ে এল বিয়ের দিন।এখন বেশ কিছুটা সুস্থ আছে অলি।ধুমধাম করে একটা ফাইভ স্টার হোটেলে বিয়ে সম্পন্ন হল দুজনের।অভীক আর বিলাসের পার্থক্যটা বিয়ের আগে থেকেই অল্প অল্প বুঝতে পারলেও এখন বিয়ের পর আরও বেশি করে বুঝতে পারছে অলি।একজন তাকে মনমরা দেখলেই সব কাজ ফেলে ছুটে আসত তার মনের কথা শুনতে,আর অপরজনকে কাছে ডাকলেও শোনে ব্যস্ততার অজুহাত।দিন দিন এককীত্বের অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে অলি।আজ কাছের বান্ধবীরাও নেই তার সুখ দুঃখের দুটো কথা শুনবে,তাদের যে অলিই অহংকারের বশে দূরে সরিয়ে দিয়েছে একসময়।বাপের বাড়ি কাছে হলেও বেশি বাপের বাড়ি যায় না সে,কারণ সেটা নিয়েও গুজব ছড়াতে পারে চারিদিকে।আর যদি কোনোভাবে খারাপ কোনো গুজব রটে,বিলাস অলিকেই দায়ী করবে।একসময় ঝোঁকের মাথায় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অলি,আজ সেই সিদ্ধান্তই উঠতে বসতে তাকে যেন ব্যঙ্গ করে,আয়নার অবয়বটাও যেন মুচকি হাসে তাকে  দেখে,বলে 'কিরে!নামযশের জন্য যেটা করলি,তাতে স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হচ্ছে বুঝি!'

 বাইরের জাঁকজমকটাই যে সব নয়,সেটা যতদিন গড়াচ্ছে ততই টের পাচ্ছে অলি।এক নামী গায়কের স্ত্রী সে,তাই যখন তখন যেখানে ইচ্ছা যাওয়া,রাস্তার পাশের সেই ফুচকা ঘুগনি খাওয়া,এমনকি কমদামী রেস্টুরেন্টে যাওয়া,সব কিছুই ঘুচেছে তার।পছন্দসই না হলেও বিদেশী খাবারই খেতে হয় তাকে বড়ো রেস্তোরাঁয় গিয়ে।সে ভীষণ মিস করে বিয়ের আগের সেই মুক্ত জীবনটা,যেখানে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডা দিলে কেউ তাকে নিয়ে মস্করা করত না,একদল বন্ধুবান্ধবীর সাথে ধর্মতলায় পুজোর যাবতীয় শপিং করে ফিরলে কেউ ক্রিটিসাইজ করত না,কারণ সেদিন সে ছিল সাধারণ মানুষ,কোনো চেনা মুখ নয়।এক বাধাহীন জীবন ছিল।

 তবুও বিলাসকে ভালোবেসে সবটা মানিয়ে নিয়েছিল অলি।শুধু মাঝে মাঝে নাম যশের ভিড়ে দমবন্ধ হয়ে আসত তার।কিন্তু এরপরই ঘটল সেই মর্মান্তিক ঘটনাটা।ভুলবশত একদিন গান রেকর্ডিং করতে যাওয়ার সময় বিলাস ফোনটা বাড়িতে রেখে চলে গিয়েছিল,আর ফোনটা অলির হাতে গিয়ে পড়ে।হঠাৎ মেসেজের শব্দে অলি বিলাসের ফোনটা খুলে দেখে।মাথায় যেন বজ্রপাত হয় তার।বিলাসের অ্যাফেয়ার চলছে একজন হিরোইনের সাথে,বর্তমানে যে মুভির জন্য গান রেকর্ডিং করতে গেছে বিলাস,সেই মুভিরই নায়িকা অস্মিতার সাথে বিলাসের সম্পর্ক রয়েছে।দুজনের মেসেজেই তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।

 বিলাস ফিরতেই সব কথা জানায় অলি তাকে।কিন্তু বিলাস বিন্দুমাত্রও বিচলিত না হয়ে বলে,'ওহ,তুমি জেনে গেছ ভালোই হয়েছে,আমায় আর কষ্ট করে জানাতে হল না তাহলে।শোনো আমি তোমায় ডিভোর্স দিতে চাই,ভয় নেই খোরপোষ দেব সারাজীবন।'

 — 'বিলাস আমি তোমার স্ত্রী....'

— 'হ্যাঁ সেতো আজ স্ত্রী,কাল ডিভোর্স দিয়ে যখন অস্মিতাকে বিয়ে করব,তখন ও আমার স্ত্রী হবে।'

 — 'বিলাস এসব কি বলছ,'কেঁদে ওঠে অলি,'তুমি আমায় কোনোদিনও ভালোবাসোনি তাই না?'

 — 'প্লিজ অলি,এসব বোকা বোকা কথা বোলো না।অস্মিতার সাথে কোনোদিক দিয়েই তোমার তুলনা চলে না।আর ওসব দু টাকার আবেগ দিয়ে সিনেমা চলে,জীবন চলে না!ক্লিয়ার?'

 শেষ লাইনটা বুকে গিয়ে লাগল অলির।এই একই কথাই তো সে অভীককেও বলেছিল,যেদিন বিলাসের সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল!অভীক কান্নাভরা চোখে তাকে আটকেছিল,সেদিন অলি বলেছিল,'দুটাকার আবেগ দিয়ে জীবন চলে না!'

 ডিভোর্সটা হয়ে গেল শেষ পর্যন্ত।বিলাস মিডিয়ার কাছে সাক্ষাৎকারে বলেছে যে অলির ইচ্ছাতেই ডিভোর্সটা হয়েছে,কারণ বিয়ের পরও অলি নিজের প্রাক্তন প্রেমিককে ভুলতে পারেনি,অবৈধ সম্পর্ক ছিল তার সাথে।

  রাস্তাঘাটে অলি ও তার মা বাবার মুখ দেখানোই দায় হয়ে গিয়েছিল,কারণ সকলেই অলিকে দেখে হাসত,খারাপ কমেন্ট করত।অন্যদিকে সবটা জানার পর অলির মা বাবা অলিকেই দোষ দেন অভীকের মতো একজন মানুষকে এভাবে কষ্ট দেওয়ার জন্য।অলির মা কেঁদে বলেন,'অন্যায়ের শাস্তি হয়ত পেতেই হয় মা!'

 এরপর মা বাবার কথাতেই অলি একদিন যায় অভীকের বাড়ি,যদি এখনও তার কাছে গেলে ক্ষমা পাওয়া যায় এই আশায়।সেখানে যেতেই অভীকের মা অলিকে দেখে বলেন,'বড্ড দেরি করে ফেললি রে মা!যদি এক বছর আগে ভুলটা বুঝতে পারতিস!'

 — 'কেন আন্টি,কি হয়েছে?'

 — 'মা তুমি যে কি করো না,'একটা বিবাহিত তরুণী রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে বলল,'আহা মেয়েটা সবে এল,আগে ও বসুক,জল মিষ্টি খাক,তারপর না হয় কথা বোলো বাপু।'তরুণীটি আবার রান্নাঘরে চলে গেল জলখাবারের যোগাড় করতে।

 — 'ও কে আন্টি?আর কি হয়েছে?'

 — 'আমিই সবটা বলছি মিসেস অলিভিয়া বোস,'অভীক এসে বলল,'ও নীরা,আমার স্ত্রী।আর  হঠাৎ এই অধমের বাড়িতে আপনার পায়ের ধুলো পড়ল যে?'

— 'অভীক!' অলির মাথায় যেন আরও একবার বাজ পড়ল,সে যে দুকূলই হারিয়েছে নিজের দোষে তা সে বুঝতে পেরে কান্নায় ভেঙে পড়ল।

 অভীকের মা অলিকে নিজের ঘরে নিয়ে গেলেন,সবটা বললেন,'তুই জানিস তোর বিয়ের পর অভির কি দশাই হয়েছিল!ও খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছিল,এমন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল যে হসপিটালে ভর্তি হতে হয়েছিল ওকে।মানসিক ভারসাম্যও কিছুটা হারিয়ে ফেলেছিল।এরপর অনেক কষ্টে ওকে সুস্থ করে তোলেন ডাক্তারবাবুরা।আমিই নীরাকে পছন্দ করেছিলাম ওর জন্য।প্রথম দিকে তো ও নীরাকে মেনেই নিতে পারেনি,তারপর মেয়েটা আস্তে আস্তে ছেলেটাকে একদম পালটে ফেলল,আজ অভি নীরা ছাড়া কিছুই বোঝে না।তুই যদি একটা বছর আগে আসতিস রে....'

 চোখের জল শুকিয়ে যায় গালে অলির।নিজের অন্যায়ের শাস্তি হিসেবেই ভেবে নেয় গোটা ঘটনাটা।

   তবে অলি আর তার পরিবার বর্তমানে কিভাবে দিন কাটাচ্ছে তা শুনেছিল অভীক।দিনের পর দিন সামাজিক অপমানে যে শেষ হয়ে যাচ্ছে অলিরা,সেই অপমান ঠাট্টার হাত থেকে বাঁচাতেই অভীক তার এক বন্ধু মারফত কলকাতা থেকে অনেক দূরে এক মফস্বলের বেসরকারি স্কুলে চাকরির ব্যবস্থা করে দেয় অলির।

   কলকাতা থেকে অনেক দূরে আজ ভালো আছে অলি।স্কুলের বাচ্চাগুলোই আজ ওর ভালোবাসা,ওদের নিয়ে একটা শান্তিপূর্ণ সংসারে ভালোই আছে আলি,সুখে আছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ